মেটাভার্সে যৌন হয়রানির শিকার হরাইজন ওয়ার্ল্ড সহ-প্রতিষ্ঠাতা!
এবার মেটাভার্সে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন খোদ মেটাভার্স গবেষক। নিনা জেন পটেল নামের ওই ব্রিটিশ এক নাগরিক হরাইজন ওয়ার্ল্ড সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার অভিযোগ, তিনি ‘মেটা’-র ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ‘হরাইজন ওয়ার্ল্ড’-এ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্টও করেন নিনা।
সেখানে ৪৩ বছর এই নারী লিখেছেন, হরাইজন ওয়ার্ল্ডে যোগ দেওয়ার এক মিনিটের মধ্যে তাকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি ছবিও তোলা হয় তার। অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় তাদের ব্লক ও রিপোর্ট করার চেষ্টাও করেও সফল হননি তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেটটি খুলে ফেলতে বাধ্য হন এবং সেটিকে বন্ধ করে দেন। গোটা ঘটনাটাকে পরাবাস্তব ও দুঃস্বপ্নের মতো বলে মনে করছেন তিনি।
মেটার একজন মুখপাত্র বলেছেন, হরাইজন ভেন্যুগুলো নিরাপদ হওয়া উচিত এবং এটি নিরাপদ রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভার্চুুয়ালি নারীদের হেনস্থা করা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে আরও সতর্ক হওয়া দরকার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৯৯২ সালে নিল স্টিফেনসনের ‘স্নো ক্র্যাশ’ উপন্যাসের চরিত্ররা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট ব্যবহার করে ডিজিটাল বিশ্বে বসবাসের গল্প হয়ে ওঠেন। সিলিকন ভ্যালির প্রকৌশলীদের কাছে এ উপন্যাস দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। বলা হচ্ছে, ওই উপন্যাসের প্রভাবেই তৈরি হচ্ছে মেটাভার্স। বিভিন্ন কোম্পানি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে এ প্রযুক্তিতে। জাগতিক বাস্তবতার সঙ্গে ঘটবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মেলবন্ধন, এমন প্রতিশ্রুতি দেখিয়েই বিশ্ববাসীকে ‘মেটাভার্স’ টার্মটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ। কিন্তু এবার সেই মেটাভার্সেই পার্থিব নারকীয়তার সম্মুখীন হলেন হরাইজন ওয়ার্ল্ড সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা।